সাল ২০০৪ তখন আমার বয়স আট বছর। বন্যায় আমাদের ঘর বাড়ি সব কিছু হারিয়ে ফেলি। পরিবারের মানুষ ছিলাম ছয় জন। আমি, ছোট দুই জমজ ভাই,, ছোট বোন আর বাবা–মা । রোজি রোজা গার করার মানুষ ছিলো শুধু বাবা। এমনিতে অভাব আবার পরিবারে এতো জন মানুষ। তখন বাবা আমাকে তার এক চাচাতো ভাইয়ের সাহায্যে ঢাকায় এক রেশন দোকানে চাকরি দিয়ে দেয়। তিন বেলে খাবার আর তিন’শ টাকা মাসে বেতন। চলে যাই ঢাকায়। শুরু হলো ছোট জীবনের নতুন অধায় প্রথমে অনেক কষ্ট হতো। এক তো ছোট মানুষ তার ওপর বারি জিনিস বহন করা। কিন্তু কি আর করার খাবার খেয়ে বাচতে হলে এই কষ্ট করতে হবে। বাবা প্রতি মাসের প্রথমে এসে আমার সাথে দেখা করে যেতো। আর বেতন নিয়ে যেতো।
এই ভাবে ওখানে কাজ করলাম দুই বছর। প্রতি বছরে বেতন বারানো হলো একশ টাকা। দুই বছরে পর বেতন হলো ছয়শ টাকা তখন বাবা আমাকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসলো। গ্রামে এনে একটা রিকশা কিনে দিলো তখন রিকশার চলাচল বেশ ভালো ছিলো। সারাদিন রিকশা চালিয়ে রাতের বেলা জমিতে কাজ করতাম। আমাদের বাড়ির পাশে একটু জমি ছিলো সেখানে একটু চাষাবাদ করতাম। ভালো কাটতে লাগলো দিন কাল বাবা মানুষের ওখানে কাজ করতো আর আমি রিকশা ভাড়া মারতাম। এই ভাবে কেটে গেলো পাঁচ বছর ততো দিনে আমাদের অবস্থা অনেক টা ভালো। বাবা আমাকে এক দিন বললো
বাবা : বাবা নিলয় তোকে একটা কথা বলি
– হুম বাবা বলো কি বলবে
বাবা : আমি ঠিক করেছি তোকে দেশের বাহিরে পাঠিয়ে দিবো। এই ভাবে আর কতো দিন চলবো বল একটা ঘর নেই আমাদের। তোর দুই ভাই বড় হচ্ছে পড়াশোনা করাতে হবে। আবার তোর একটা বোন আছে সে ও বড় হচ্ছে। অনেক ভেবে চিন্তে এই সিদ্ধান্ত নিলাম তুমি কি বলিস
– তোমার যা ভালো মনে হয় তাই করো কিন্তু বিদেশে যেত অনেক টাকা লাগবে এতো টাকা কই পাবে তুমি
বাবা : আমাদের বাড়ির পাশে একটু জমি সেই টা বিক্রি করেদিবো।
– বাবা আমাদের জমিই শুধু এইটুকু। এইটা ও বিক্রি করে দিবে,।আর ওই জমি বিক্রি করে ও হবে না
বাবা : কি করবো বল না হয় আমাদের কে টাকা দিবে। তোর ছোট চাচার থেকে কিছু টাকা নিবো
– আচ্ছা তোমার যা ভালো মনে হয় তাই করো
আমার খালাতো ভাই ছিলো সোদী আরব তার মাধ্যমে সব কিছু করা হলো। বয়স কম ছিলো তাই পাসপোর্ট করতে অনেক কষ্ট হয়ে ছিলো। সব কিছু শেষ করে যেই দিন বাড়ি থেকে বের হবো। বাবা আমার হাতে হাত রেখে বলে ছিলো
বাবা : বাবা আমার শেষ সম্বল বিক্রি করে তোকে দিয়ে দিলাম। আশা করি এর থেকে বেশি আমাকে ফিরিয়ে দিবে
– দোয়া করো বাবা আমি যেনো তোমার মনে আশা পৃরণ করতে পারি। বাবার থেকে বিদায় নিয়ে মায়ের কাছে গেলাম।
– মা আমার জন্য দোয়া করো আমি যেনো বাবার আশা পৃরণ করতে পারি। মা আমার মাথায় হাত দিয়ে বলে ছিলো।
মা – বাবা আমি দোয়া করি তুই এক দিন অনেক বড় হবি। আল্লাহ তোর সব ইচ্ছে পৃরণ করবে।
পারি জমায় ১৭ বছর বয়সে প্রবাস নামক জেল খানায়। প্রথম প্রথম বাড়ির জন্য মন খারাপ হতো কিছু দিন পর সব ঠিক হয়ে যায়। শুধু করলাম জীবন আরো এক নতুন অধায়। চলতে থাকে জীবন যুদ্ধ এক বছর সময় লেগে যায় ছোট কাকার দেনা দিতে ততো দিন অনেক টা সচল হয়ে যাই আমরা। আরো এক বছর পর বাবার দেয়া জমির টাকা দিয়ে বলেছিলাম।
– বাবা তোমার ছেলে তোমার আশা পৃরণ করতে পারছি তুমি খুশি তো বাবা
বাবা : হুমরে বাবা আজকে আমি অনেক খুশি আমার ছোট নিলয় অনেক বড় হয়ে গেছে। এখন শুধু একটা ঘর দরকার আমাদের।
বাবার কথা শুনে কিছু খারাপ লাগলো ভেবে ছিলাম বাবা বলবে অনেক দিন হলো তোকে দেখি না কিছু দিন বাড়ি এসে থেকে যা। কিন্তু বাবা আমার কাছে আরো একটা আবদ্ধা করে বসলো ঘর লাগবে। ছয় মাসের টাকা দিয়ে ঘর তুলে দিলাম ঘর তুলার পর থেকে আমার পরিবারের কাছ থেকে। আরো আবদ্ধার বারতে থাকলো। দীর্ঘ সাত বছরে ও তাদের আবদ্ধার পৃরণ করতে পারি নাই। তাই আজ সাত বছর পার বাড়ি যাচ্ছি। আমার দেশে আসার খবর কেউ জানে নাহ্। বিমানবন্ধর থেকে বেড়ি একটা গাড়ি নিয়ে চললাম বাড়ির দিকে। সাত বছরে অনেক পাল্টে গেছে শহর। দীর্ঘ পাঁচ ঘন্টা পরে বাড়ি এসো পোঁছালাম। বাড়ি এসে দেখি .........
চলবে
.png)
.png)