~শেষ প্রশ্ন~
- তোকে কি এত তাড়াতাড়ি যেতেই হতো অনি?
- হুম।
- এই সপ্তাহটা থেকে যাওয়া একেবারেই অসম্ভব ছিল?
- এই নিয়ে সাড়ে-সাতাশিবার একই প্রশ্ন করলি তুই লাস্ট দু-ঘন্টায়।
- সেই, প্রশ্নটা গুনে রাখলি আর উত্তরটা...
- সেটাও কিন্তু দিয়েছি। অন্ততঃ দশবার... সেই গতকাল থেকেই।
- সেই...
- একটা কথা বলি?
- নাঃ।
- মানে?
- মানে চুপ করে থাক একটু। এত কথা ভালো লাগছে না, এত আওয়াজ সহ্য করতে পারছি না।
- হাহা, স্টেশন চত্বরে আওয়াজ হবে না তো কোথায় হবে?
- কবে ফিরবি?
- পুজোয় হয়তো!
- জলের বোতল দুটো নিয়েছিস?
- হ্যাঁ।
- জ্যকেটটা রেখেছিলি ঠিক জায়গায়?
- হ্যাঁ।
- সাবধানে থাকবি।
- হ্যাঁ
- আর বেশি সিগারেট খাবি?
- হ্যাঁ... মানে না!
- অনি...
- সরি... হেহে!
- ওই গাঁজাখোর ছেলেটার সাথে অ্যাপার্টমেন্ট শেয়ার করবি না!
- না।
- কথায় কথায় চাপ খেয়ে বেশি স্ট্রেস নিবি না।
- না।
- সব উইকেন্ডে ডিস্কে যাবি না, বেশি ড্রিংক করবি না!
- না।
- আমাকে ফোন করবি না!
- না।
- অনি...
- ওহ হ্যাঁ হ্যাঁ...মানে না, হ্যাঁ...
- কি হ্যাঁ, না করে যাচ্ছিস? ঠিক করে কথা বল। কিছুই শুনছিস না তুই। মন কোন দিকে থাকে?
- না মানে, আমি বলছি কেন করবো না ফোন? করবো করবো... বেশি করেই করবো!
- হুম...
(বেশ কিছুক্ষণ এর নীরবতা)
- ট্রেন ছেড়ে দেবে ক্ষেপি, এবার নেমে যা।
- হুম? ওহ হ্যাঁ... নামছি...
- পরে ভাবনা-চিন্তা হবে ক্ষেপি-রে! এবার নাম... আর শোন, ট্রেন ছাড়লে দাঁড়িয়ে থাকবি স্টেশনে, আগের দু-বারের মত সাথে সাথে দৌড়বি না। স্টেশনের মধ্যে কার সাথে কখন ধাক্কা লেগে পড়ে যাবি... তখন আমি কিন্তু থাকবো না সামলাতে!
- ....
- ....
- সব সময় বেশি দাদাগিরি দেখাতে যাস না... এই তো নেমে দাঁড়িয়ে আছি এবার! শান্তি?
- আর কিছু বলবি?
- না।
- চট করে ভেবে নিয়ে বল... ট্রেন ছাড়লে ডোন্ট মুভ... আগেই বলে দিচ্ছি কিন্তু!
ট্রেন ছেড়ে দিলো অনির গন্তব্যের উদ্দেশ্যে...
- অনি বাই।
- বাই, সাবধানে বাড়ি ফিরিস পুঁটিরাণী।
- শয়তান! খাবার খেয়ে নিবি সব। ফেলবি না।
- ওকে।
- অনি টিস্যু পেপার নিয়েছিস?
- ক্ষেপি আর এগোস না, বারণ করেছি আমি কিন্তু।
- অনি ফোন করবি পৌঁছেই...
- রীতি, থেমে যা-আ...
- অনি-ই-ই, শেষ প্রশ্ন...
- ভালোবাসি রে-এ! ফিরবো! অপেক্ষা করি-ই-স...
নাঃ, ট্রেনের স্পীডের সাথে পারেনি আর এগোতে রীতি। বরং দৌড়ে চলে গেছিলো কাছের ওভারব্রীজটার ওপরে। বিকেলের আকাশ তখন গোধূলির রং মেখে সেজে উঠেছে নববধূ সাজে। দিগন্তে হারিয়ে যাওয়া রেলওয়ে ট্র্যাকের ওপর দিয়ে মিলিয়ে যাওয়া ট্রেনটার দিকে এক দৃষ্টে তাকিয়ে রীতি বলে উঠলো- "জানি আমার সব প্রশ্নের উত্তর তোর কাছে আছে, তোর কাছেই আছে। তাড়াতাড়ি ফিরে আয় আবার, সন্ধ্যে নামার আগেই... ঘরের মায়ায়, পরিচিত আলোছায়ায়।"
লেখায় : সুজাতা
চিত্রঋণ : Atasi Kirtania
- তোকে কি এত তাড়াতাড়ি যেতেই হতো অনি?
- হুম।
- এই সপ্তাহটা থেকে যাওয়া একেবারেই অসম্ভব ছিল?
- এই নিয়ে সাড়ে-সাতাশিবার একই প্রশ্ন করলি তুই লাস্ট দু-ঘন্টায়।
- সেই, প্রশ্নটা গুনে রাখলি আর উত্তরটা...
- সেটাও কিন্তু দিয়েছি। অন্ততঃ দশবার... সেই গতকাল থেকেই।
- সেই...
- একটা কথা বলি?
- নাঃ।
- মানে?
- মানে চুপ করে থাক একটু। এত কথা ভালো লাগছে না, এত আওয়াজ সহ্য করতে পারছি না।
- হাহা, স্টেশন চত্বরে আওয়াজ হবে না তো কোথায় হবে?
- কবে ফিরবি?
- পুজোয় হয়তো!
- জলের বোতল দুটো নিয়েছিস?
- হ্যাঁ।
- জ্যকেটটা রেখেছিলি ঠিক জায়গায়?
- হ্যাঁ।
- সাবধানে থাকবি।
- হ্যাঁ
- আর বেশি সিগারেট খাবি?
- হ্যাঁ... মানে না!
- অনি...
- সরি... হেহে!
- ওই গাঁজাখোর ছেলেটার সাথে অ্যাপার্টমেন্ট শেয়ার করবি না!
- না।
- কথায় কথায় চাপ খেয়ে বেশি স্ট্রেস নিবি না।
- না।
- সব উইকেন্ডে ডিস্কে যাবি না, বেশি ড্রিংক করবি না!
- না।
- আমাকে ফোন করবি না!
- না।
- অনি...
- ওহ হ্যাঁ হ্যাঁ...মানে না, হ্যাঁ...
- কি হ্যাঁ, না করে যাচ্ছিস? ঠিক করে কথা বল। কিছুই শুনছিস না তুই। মন কোন দিকে থাকে?
- না মানে, আমি বলছি কেন করবো না ফোন? করবো করবো... বেশি করেই করবো!
- হুম...
(বেশ কিছুক্ষণ এর নীরবতা)
- ট্রেন ছেড়ে দেবে ক্ষেপি, এবার নেমে যা।
- হুম? ওহ হ্যাঁ... নামছি...
- পরে ভাবনা-চিন্তা হবে ক্ষেপি-রে! এবার নাম... আর শোন, ট্রেন ছাড়লে দাঁড়িয়ে থাকবি স্টেশনে, আগের দু-বারের মত সাথে সাথে দৌড়বি না। স্টেশনের মধ্যে কার সাথে কখন ধাক্কা লেগে পড়ে যাবি... তখন আমি কিন্তু থাকবো না সামলাতে!
- ....
- ....
- সব সময় বেশি দাদাগিরি দেখাতে যাস না... এই তো নেমে দাঁড়িয়ে আছি এবার! শান্তি?
- আর কিছু বলবি?
- না।
- চট করে ভেবে নিয়ে বল... ট্রেন ছাড়লে ডোন্ট মুভ... আগেই বলে দিচ্ছি কিন্তু!
ট্রেন ছেড়ে দিলো অনির গন্তব্যের উদ্দেশ্যে...
- অনি বাই।
- বাই, সাবধানে বাড়ি ফিরিস পুঁটিরাণী।
- শয়তান! খাবার খেয়ে নিবি সব। ফেলবি না।
- ওকে।
- অনি টিস্যু পেপার নিয়েছিস?
- ক্ষেপি আর এগোস না, বারণ করেছি আমি কিন্তু।
- অনি ফোন করবি পৌঁছেই...
- রীতি, থেমে যা-আ...
- অনি-ই-ই, শেষ প্রশ্ন...
- ভালোবাসি রে-এ! ফিরবো! অপেক্ষা করি-ই-স...
নাঃ, ট্রেনের স্পীডের সাথে পারেনি আর এগোতে রীতি। বরং দৌড়ে চলে গেছিলো কাছের ওভারব্রীজটার ওপরে। বিকেলের আকাশ তখন গোধূলির রং মেখে সেজে উঠেছে নববধূ সাজে। দিগন্তে হারিয়ে যাওয়া রেলওয়ে ট্র্যাকের ওপর দিয়ে মিলিয়ে যাওয়া ট্রেনটার দিকে এক দৃষ্টে তাকিয়ে রীতি বলে উঠলো- "জানি আমার সব প্রশ্নের উত্তর তোর কাছে আছে, তোর কাছেই আছে। তাড়াতাড়ি ফিরে আয় আবার, সন্ধ্যে নামার আগেই... ঘরের মায়ায়, পরিচিত আলোছায়ায়।"
লেখায় : সুজাতা
চিত্রঋণ : Atasi Kirtania
.png)
